হোয়াইট ভিনেগার বা আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা

আপনি যদি ভিনেগার বা সিরকার উপকারিতা এবং আপেল সিডার ভিনেগার কি এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে আজকের লেখাটি সম্পূর্ণ পড়বেন। 

আমাদের আজকের আর্টিকেল থেকে যা যা জানতে পারবেনঃ 

অর্ডার করতে ক্লিক করুন
Ad 1

ভিনেগার বা সিরকা কি
আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা
আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম
সাদা সিরকা বা হোয়াইট ভিনেগারের উপকারিতা
হোয়াইট ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম
চুলে সিরকা ব্যবহারের নিয়ম
গৃহস্থালি কাজে সিরকা বা ভিনেগারের ব্যবহার
রুপচর্রচায় ভিনেগারের ব্যবহার

এই লেখার বিষয়বস্তুঃ

ভিনেগার বা সিরকা কি? 

ভিনেগার কিংবা সিরকা আসলে এসিটিক এসিড আর পানির মিশ্রন। ‘এসিটিক এসিড ব্যাক্টেরিয়া’ এর সাহায্যেই ইথানল এর অক্সিডেশন এর মাধ্যমে এসিটিক এসিড তৈরি হয়ে থাকে। 

অর্ডার করতে ক্লিক করুন
Ad 2

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা

আপেল সিডার ভিনেগার হল ১ রকমের ভিনেগার যা, ভেজানো আপেলের রস থেকে বানানো হয়। আর এটাকে আপনারা একাধারে সালাদের ড্রেসিংস, ফুড প্রিজারভেটিভস আর চাটনি হিসাবে ও ব্যবহার করতে পারবেন খুব সহজেই। 

স্বাস্থ্যগত দিকের কথা বললে ও এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে আপনি চেষ্টা করবেন এটিকে পরিণত পরিমাণে খাবার জন্য, পরিমাণের থেকে বেশি পরিমাণে খাবেন না। 

অর্ডার করতে ক্লিক করুন
Ad 3

আপেল সিডার ভিনেগার কি?

ভিনেগার শব্দটা আসলে ফরাসি ভাষা হতে উৎপত্তি হয়েছে যার ইংরেজি হলো ‘সাওয়ার ওয়াইন’ কিংবা টক স্বাদযুক্ত এক ধরনের ওয়াইন। একেবারে সহজ ভাবে যদি বলতে চাই তবে বলা যায় আপেল সিডার ভিনেগার হল ১টি ফার্মেন্টেড জুস। একটি আপেলকে পিষে যে রস বের করা হয় তারপরে বিশেষ উপায়ে এটিকে তৈরি করা হয়ে থাকে। 

যা তৈরি করার জন্য অ্যালকোহলীয় গাঁজন প্রক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপেলের শর্করাগুলো ভাঙ্গার পরে অ্যালকোহলে রূপান্তরিত হয়ে যায়। আর তারপরে অ্যালকোহল ভিনেগারকে মূলত এসিটিক এসিড – (Acetobacter প্রজাতি ব্যাকটেরিয়া) এর মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়ে থাকে। এসিটিক এসিড আর ম্যালিক এসিড একত্রিত হয়েই ভিনেগারকে এর‌ চেনা পরিচিত স্বাদ দিয়ে থাকে।

অর্ডার করতে ক্লিক করুন
Ad 4

আপেল সিডার ভিনেগার আমাদের সবার শরীরের জন্য অনেক উপকারী। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতাতে ও এর অনেক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ক্ষতস্থান নিরাময় করার জন্য এর ব্যবহার করা হত। আপেল সিডার ভিনেগার এর উপকারিতা সম্পর্কে নিচে আরো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হলো।

অর্ডার করতে ক্লিক করুন
Ad 5

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে আপেল সিডার

আপেল সিডার ভিনেগার এর অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য হলো যে, এর মেটাবলিজম বুস্ট করার ক্ষমতা রয়েছে। আর যার কারণে এটা খেলে আমাদের শরীরে দীর্ঘসময় ধরে পেট ভরা থাকে। ফলশ্রুতিতে মানুষ প্রতিদিনের মাত্রাতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হতে সহজেই বিরত থাকতে পারে আর ওজন নিয়ন্ত্রণে করতে পারে।

Advertisements
Ad 6

তবে আপনি যদি এটা গ্রহণ করার মাধ্যমে কাঙ্খিত ফলাফল পেতে চান, তবে আপনাকে এটা নিয়মিত ভাবে খেতে হবে! অত্যন্ত তিন মাস পর্যন্ত এটিকে আপনাকে খাওয়া লাগবে, তাহলেই আপনি এর ফলাফল পাবেন। কিছু কিছু গবেষণা হতে প্রাপ্ত ফলাফল মতে, আপেল সাইডার ভিনেগার আমাদের তল পেটের চর্বি কমানোর জন্য ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য কার্যকরী 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা রয়েছেন তাদের কথা মতে, আপেল সিডার ভিনেগার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতে কাজ করে থাকে। আর অনেকগুলো গবেষণা থেকে তার অনেক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। আর একই সঙ্গে এটা মেয়েদের নিয়মিত পিরিয়ড ঠিক রাখার জন্য ও সহায়তা করে থাকে। 

হজমশক্তি বাড়াতে কাজ করে যে ভিনেগার

এটা আমাদের শরীরের পাকস্থলীর এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার মতো গুণাগুণ রয়েছে। মূলত এটা আমাদের পাকস্থলীতে ‘পেপসিন’ নামক এনজাইম তৈরির মাত্রাটিকে বাড়িয়ে তুলে। প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হজম করার ক্ষেত্রে পেপসিন অনেক তাড়াতাড়ি কাজ করে, আর যার ফলে দ্রুত খাবার হজম হয়। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে

অন্যান্য যে সমস্ত ভিনেগার রয়েছে তার মত আপেল সিডার ভিনেগারও ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে অনেক সাহায্য করে। ১ টি গবেষণা থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ভিনেগার ক্যানসার কোষ মেরে ফেলতে কাজ করে থাকে।

আর এ সেজন্য ক্যানসারের মতো মরণঘাতী রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের প্রতিদিন ডায়েটে এই ভিনেগারটি অবশ্যই রাখা উচিত। কারণ এটা আমাদের খাদ্যনালীর ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে 

আমাদের কিডনি নিজে হতেই রেনিন নামের এক ধরণের হরমোন উৎপন্ন করতে থাকে। আর তা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, মাঝে মাঝে রক্তনালীকে সংকুচিত কিংবা প্রসারিত করে দেয়। আপেল সিডার ভিনেগার এই রেনিনকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তনালীসমূহকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে দেখা যায় আমাদের শরীরে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ঠান্ডা এবং সর্দি-কাশি সারাতে কাজ করে

আপেল সিডার ভিনেগার মৌসুমী ঠান্ডাজনিত রোগ যেমন- হাঁচি-কাশি অথবা গলা ব্যথা দূর করার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঠান্ডাজনিত সমস্যা যদি হয়ে যায় তবে সামান্য পরিমাণে কুসুম গরম পানির সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে গার্গল করলে আপনারা বেশ ভালো উপকার পাবেন।

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয় 

আপেল সিডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar) ব্যাকটেরিয়া আর ফাঙ্গাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে অনেক বছর আগে থেকে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আর এটা E.coli এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রাচীন কালে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করে রেখে দেওয়া হতো। এখনও আচার বা সেমিসলিড জাতীয় খাবারে ভিনেগারের ব্যাবহার করে আসছে।

আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম

আপেল সিডার ভিনেগার আপনারা আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রত্যেকটা মানুষের ভিন্ন ভিন্ন দরকারে, প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়ার পরিমাণ এবং ব্যবহার বিধিতেও অনেকটা পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে সামান্য গরম পানির মধ্যে দুই থেকে তিন চামচ পরিমাণে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে, তারপরে খেলে অনেক বেশি উপকার পাওয়া যায়।

অন্যান্য ভিনেগারের মতো এটাও খাদ্য সংগ্রহ করে রাখতে পারে। আর তাছাড়াও রান্নার কাজে, সালাদের সঙ্গে এবং অন্য যে কোন খাবারের সঙ্গে এটাকে মিশিয়ে খেতে পারবেন।

সাদা সিরকা বা হোয়াইট ভিনেগারের উপকারিতা

এটার মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণে আঁশ (ফাইবার) রয়েছে, যেটা কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য কার্যকরীভাবে ভূমিকা পালন করে। টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় এবং আমাদের শরীরে হৃদরোগের আশঙ্কা কমাতে পারে। তবে ডায়াবেটিসের জন্য যদি আপনার ওষুধ খাওয়া লাগে তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া লাগবে। ভিনেগারের কটু গন্ধ আর স্বাদ অনেকেই সহ্য করতে পারেনা। তারা অবশ্যই জেনে শুনে খাবেন।

হোয়াইট ভিনেগার বা সিরকা খাওয়ার নিয়ম

হোয়াইট ভিনেগার এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের জন্য আধাকাপ পানিতে ১-২ চামচ সিরকা মিশিয়ে সকাল ও রাতে খেতে পারেন। তাছড়াও সালাদে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষে ঘরগৃহস্থালি কাজেই বেশী ব্যবহার করে। বিশেষ করে কোন কিছু পরিস্কারের জন্য ব্যাবহার করে। স্বাদ না থাকায় তারা ভিনেগার খেতে চায়না।

চুলে সিরকা ব্যবহারের নিয়ম

সাদা সিরকা খুশকি তাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমিয়ে দেয়। ২ কাপ পানির মধ্যে এক কাপ পরিমাণে সাদা সিরকা মিশিয়ে  রাখবেন। শ্যাম্পু করার পরে এটাকে মাথায় ঢেলে দিবেন। তাছাড়াও ৩ কাপ পানির সাথে ২ টেবিল চামচ সাদা সিরকা ও ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাথার মধ্যে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাসাজ করবেন। খুশকি দূর করে চুল শক্ত করবে।

গৃহস্থালি কাজে সিরকা বা ভিনেগারের ব্যবহার

রান্নাবান্না করার কাজে প্রায় সময়ই আচার-চাটনী এবং সালাদের মধ্যে এটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইতালীয় রান্নাবান্না করার কাজে ভিনেগার, তৈল ও লবণ আবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গৃহস্থালী পরিষ্কার করার কাজে, পুড়ে গেলে, চিকিৎসার কাজে পথ্যসহ ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার করা হয়।

ভিনেগারের দাম কত

আপনি বাজারে গেলে বিভিন্ন রকমের আপেল ভিনেগার পেয়ে যাবেন। আর যেগুলোর দাম আপনারা দেখবেন ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।  

কম দামের ভিনেগার এবং বেশি দামি ভিনেগারের ভিতরে সেরকম ভাবে কোন পার্থক্য দেখা যায় না। তাই আপনারা সবসময় চেষ্টা করবেন মিডিয়াম প্রাইসের ভিতরে আপেল সাইডার ভিনেগার কেনার জন্য। 

আর আপেল ব্রান্ডের ভিনেগার কেনার সময় আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে করে ভিনেগার যেন উৎপাদন তারিখ থেকে বেশি দিনের না হয়ে যায়।

রুপচর্চায় ভিনেগারের ব্যবহার

ভিনেগার আমাদের ত্বককে রোদের পোড়াভাব দূর করে দেয় এবং ত্বক প্রাণবন্ত করে তুলতে সাহায্য করে। আপনারা ৪ কাপ পরিমাণে পানির ভিতরে আধাকাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নেবেন, তারপরে ১টা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে রোদে পুড়ে যাওয়া স্থানে লাগিয়ে নেবেন। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ত্বকের পিএইচ লেভেলের ভারসাম্য রক্ষা করতে কাজ করে এবং ত্বকের পোড়া দাগ দূর করার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

আমাদের শেষ কথা
তাহলে আমাদের আজকের লেখা থেকে আপনারা ভিনেগার বা সিরকার উপকারিতা এবং আপেল সিডার ভিনেগার কি এই বিষয় নিয়ে জানতে পারলেন। আর এই রকমের নিত্য নতুন তথ্য পেতে চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট এর সঙ্গেই থাকবেন।

অর্ডার করতে ক্লিক করুন
Ad 7

Leave a Comment

অর্ডার করুন